দ্রুততম সংযোগসমূহ
Menu
ফিরে যান

IVF সফল না হওয়ার সাধারণ কারণ এবং সফলতার সম্ভাবনা কীভাবে বাড়াবেন

অনেক দম্পতির জন্য, IVF (ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন) তাদের বাবা-মা হওয়ার স্বপ্ন পূরণের আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। তবে, প্রতিটি IVF সাইকেলের ফলস্বরূপ সফল গর্ভধারণ হয় না। যখন কোনো IVF সাইকেল ব্যর্থ হয়, তখন তা মানসিক ও শারীরিকভাবে কঠিন হতে পারে। IVF ব্যর্থ হওয়ার কারণটি বোঝা রোগী এবং চিকিৎসকদের ভবিষ্যৎ চিকিৎসার জন্য আরও ভালো সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করতে পারে।

ভালো খবর হলো, IVF ব্যর্থ হওয়া সবসময় যে গর্ভধারণ অসম্ভব—এমনটা নয়। অনেক ক্ষেত্রে, ব্যর্থতার পেছনের কারণ শনাক্ত করে সঠিক পরিবর্তন আনলে পরবর্তী IVF সাইকেলে সফলতার সম্ভাবনা বাড়ানো যেতে পারে।

IVF ব্যর্থতা কী?

IVF সফল না হওয়া বলতে সাধারণত বোঝায়, ভ্রূণটি জরায়ুতে ঠিকভাবে ইমপ্লান্ট হতে পারেনি, অথবা ইমপ্লান্ট হওয়ার পরেও গর্ভধারণটি টিকে থাকেনি। ভালো মানের ভ্রূণ ট্রান্সফার করার পরেও কখনও কখনও IVF সাইকেল সফল নাও হতে পারে।

IVF সফল না হওয়ার পিছনে সাধারণত একটাই কারণ থাকে না। ভ্রূণ, জরায়ু, স্পার্ম, ডিম্বাণু বা সামগ্রিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত এক বা একাধিক কারণে IVF সফল নাও হতে পারে।

IVF ব্যর্থতার সাধারণ কারণগুলি

ভ্রূণের মান ভালো না হওয়া

IVF সফল না হওয়ার অন্যতম সাধারণ কারণ হলো ভ্রূণের মান ভালো না হওয়া। ভ্রূণে ক্রোমোজোমের কোনো সমস্যা থাকলে সেটি জরায়ুতে ঠিকভাবে ইমপ্লান্ট নাও হতে পারে, অথবা ইমপ্লান্ট হওয়ার পর ভ্রূণের বৃদ্ধি থেমে যেতে পারে।

ভ্রূণের মান বিভিন্ন কারণে প্রভাবিত হতে পারে, যেমন:

  • মায়ের বয়স
  • ডিম্বাণুর মান
  • স্পার্মের মান
  • জেনেটিক কারণ

বিশেষ করে ৩৫ বছর বয়সের পর মহিলাদের ডিম্বাণুতে ক্রোমোজোমের সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা বাড়তে থাকে।

ইমপ্লান্টেশনের সমস্যা

কখনও কখনও ভালো মানের ভ্রূণ জরায়ুতে ট্রান্সফার করার পরেও সেটি জরায়ুর আস্তরণে ঠিকভাবে আটকে থাকতে পারে না। এটাকেই ইমপ্লান্টেশন ফেইলিওর বলা হয়।

এর সম্ভাব্য কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • জরায়ুর আস্তরণ পাতলা হওয়া
  • জরায়ুতে কোনো অস্বাভাবিকতা থাকা
  • পলিপ
  • ফাইব্রয়েড
  • জরায়ুতে ক্ষত বা দাগের টিস্যু থাকা
  • জরায়ুতে প্রদাহ

ভ্রূণ যাতে সফলভাবে ইমপ্লান্ট হতে পারে, তার জন্য জরায়ুর স্বাস্থ্যকর পরিবেশ থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ডিম্বাণুর মানের সমস্যা

IVF সফল হওয়ার ক্ষেত্রে ডিম্বাণুর মান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেকগুলো ডিম্বাণু সংগ্রহ করা গেলেও, সব ডিম্বাণু থেকে সুস্থ ভ্রূণ তৈরি নাও হতে পারে।

ডিম্বাণুর মান খারাপ হওয়ার কারণ হতে পারে:

  • মায়ের বয়স বেশি হওয়া
  • ডিম্বাণুর মজুত বা ওভেরিয়ান রিজার্ভ কমে যাওয়া
  • হরমোনের ভারসাম্যহীনতা
  • কিছু নির্দিষ্ট শারীরিক সমস্যা

স্পার্ম সংক্রান্ত সমস্যা

IVF সফল হওয়ার ক্ষেত্রে পুরুষের ফার্টিলিটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। স্পার্মের সংখ্যা কম হওয়া, স্পার্মের চলনশক্তি কম থাকা, স্পার্মের গঠনে অস্বাভাবিকতা বা স্পার্মের DNA-তে ক্ষতি থাকলে ডিম্বাণু নিষিক্ত হওয়া এবং ভ্রূণের সঠিক বিকাশে সমস্যা হতে পারে।

কখনও কখনও সাধারণ সিমেন অ্যানালাইসিসে সবকিছু স্বাভাবিক মনে হলেও, অতিরিক্ত কিছু পরীক্ষায় স্পার্মের DNA-তে ক্ষতি ধরা পড়তে পারে।

হরমোনের ভারসাম্যহীনতা

ডিম্বাণুর বৃদ্ধি, ওভুলেশন এবং ভ্রূণ জরায়ুতে ইমপ্লান্ট হওয়ার জন্য শরীরে হরমোনের মাত্রা সঠিক থাকা জরুরি।

নিচের সমস্যাগুলো IVF-এর সফলতায় প্রভাব ফেলতে পারে:

  • থাইরয়েডের সমস্যা
  • পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS)
  • প্রোল্যাক্টিন হরমোনের মাত্রা বেশি হওয়া
  • প্রোজেস্টেরন হরমোনের মাত্রা কম থাকা

এই ধরনের হরমোনজনিত সমস্যা IVF-এর ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।

জীবনযাপনের কিছু অভ্যাস

জীবনযাপনের কিছু অভ্যাসও IVF-এর সফলতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

যে বিষয়গুলো গর্ভধারণের সম্ভাবনা কমিয়ে দিতে পারে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • ধূমপান
  • অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন
  • অতিরিক্ত ওজন
  • খুব কম ওজন
  • দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ
  • পুষ্টিকর খাবারের অভাব
  • পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া

শুধু জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনলেই সব ধরনের ফার্টিলিটি সমস্যার সমাধান হয় না। তবে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন সামগ্রিক প্রজনন স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সাহায্য করতে পারে।

IVF সফল হওয়ার সম্ভাবনা কীভাবে বাড়ানো যায়

চিকিৎসকের দেওয়া ট্রিটমেন্ট প্ল্যান ঠিকভাবে মেনে চলুন

চিকিৎসক যেভাবে ওষুধ খেতে বলেছেন, ঠিক সেভাবেই খান এবং নির্ধারিত সব মনিটরিং অ্যাপয়েন্টমেন্টে যান। IVF ট্রিটমেন্ট একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে করা হয়। তাই ওষুধ খেতে বা অ্যাপয়েন্টমেন্টে যেতে ভুল হলে ট্রিটমেন্টের ফলাফলে প্রভাব পড়তে পারে।

নিজের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিন

পরের IVF সাইকেল শুরু করার আগে নিজের স্বাস্থ্যের দিকে একটু বেশি নজর দেওয়া ভালো।

এর মধ্যে থাকতে পারে:

  • স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা
  • সুষম খাবার খাওয়া
  • নিয়মিত হালকা বা মাঝারি ব্যায়াম করা
  • পর্যাপ্ত ঘুমানো
  • মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা

শরীর সুস্থ থাকলে প্রজনন ক্ষমতাও ভালোভাবে কাজ করতে পারে।

শরীরে থাকা অন্য কোনো সমস্যা থাকলে তার চিকিৎসা করুন

থাইরয়েডের সমস্যা, ডায়াবেটিস, PCOS, এন্ডোমেট্রিওসিস বা জরায়ুতে কোনো অস্বাভাবিকতা থাকলে, সেগুলোর সঠিক চিকিৎসা করানো জরুরি। এসব সমস্যা নিয়ন্ত্রণে থাকলে ভ্রূণের ইমপ্লান্টেশন এবং গর্ভধারণের সম্ভাবনা বাড়তে পারে।

প্রয়োজনে আরও কিছু ফার্টিলিটি টেস্ট করানোর কথা ভাবুন

বারবার IVF সফল না হলে, আপনার ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞ আরও কিছু পরীক্ষা করার পরামর্শ দিতে পারেন।

এর মধ্যে থাকতে পারে:

  • হিস্টেরোস্কোপি
  • জরায়ুর আস্তরণ পরীক্ষা
  • জেনেটিক টেস্ট
  • স্পার্মের DNA ফ্র্যাগমেন্টেশন টেস্ট
  • হরমোনের পরীক্ষা
  • কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ইমিউনোলজিক্যাল পরীক্ষা

এই পরীক্ষাগুলোর মূল উদ্দেশ্য হলো IVF সফল না হওয়ার পিছনে কোনো লুকানো কারণ রয়েছে কি না, তা খুঁজে বের করা।

ভ্রূণের জেনেটিক পরীক্ষা নিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করুন

কিছু ক্ষেত্রে প্রি-ইমপ্লান্টেশন জেনেটিক টেস্টিং (PGT) করা হলে ভ্রূণের ক্রোমোজোম স্বাভাবিক আছে কি না, তা বোঝা যেতে পারে। এর ফলে এমন ভ্রূণ ট্রান্সফার করার ঝুঁকি কমানো যায়, যেগুলো থেকে সুস্থ গর্ভধারণের সম্ভাবনা কম।

তবে সবার জন্য PGT প্রয়োজন হয় না। বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে, যেমন বারবার IVF সফল না হওয়া বা বারবার গর্ভপাতের সমস্যা থাকলে, এটি উপকারী হতে পারে।

সঠিক ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞ বেছে নিন

IVF ট্রিটমেন্টের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের অভিজ্ঞতা এবং ভালো ল্যাবরেটরি সুবিধা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একজন অভিজ্ঞ ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞের টিম আগের IVF সাইকেলগুলোর ফলাফল খতিয়ে দেখে, কেন ট্রিটমেন্ট সফল হয়নি তার সম্ভাব্য কারণগুলো চিহ্নিত করতে এবং আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী একটি ব্যক্তিগতকৃত ট্রিটমেন্ট প্ল্যান তৈরি করতে সাহায্য করতে পারেন।

একটি IVF সাইকেল ব্যর্থ হলে আশা হারাবেন না

একবার IVF সফল না হলে খুবই খারাপ লাগতে পারে। তবে অনেক দম্পতি পরেরবার ট্রিটমেন্টে কিছু পরিবর্তন আনার পর সফলভাবে গর্ভধারণ করতে পারেন। IVF কেন সফল হয়নি, তার নির্দিষ্ট কারণ খুঁজে বের করা এবং পরের সাইকেলের আগে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া অনেক সময় সফলতার সম্ভাবনা বাড়াতে সাহায্য করে।

প্রত্যেকের IVF-এর অভিজ্ঞতা আলাদা। একজন দম্পতির ক্ষেত্রে যে ট্রিটমেন্ট কাজ করে, অন্য দম্পতির ক্ষেত্রে সেটি একইভাবে কাজ নাও করতে পারে। তাই প্রত্যেকের পরিস্থিতি অনুযায়ী আলাদা করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং ট্রিটমেন্ট প্ল্যান তৈরি করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

শেষ কথা

IVF ব্যর্থ হওয়ার কারণ বোঝা সফল গর্ভধারণের সম্ভাবনা বাড়ানোর দিকে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ভ্রূণের গুণমান, জরায়ুর স্বাস্থ্য, ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর গুণমান, হরমোনের ভারসাম্য এবং জীবনযাত্রার মতো বিভিন্ন কারণ IVF-এর ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে। একটি সম্পূর্ণ চিকিৎসাগত মূল্যায়নের মাধ্যমে IVF ব্যর্থতার অন্তর্নিহিত কারণ শনাক্ত করা সম্ভব এবং ভবিষ্যৎ চিকিৎসার বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে।

Abha Surgy Healthcare Pvt. Ltd. প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসা এবং ব্যক্তিগতকেন্দ্রিক যত্নের উপর গুরুত্ব দিয়ে ফার্টিলিটি মূল্যায়ন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে। IVF ব্যর্থতার সম্মুখীন দম্পতি বা ফার্টিলিটি চিকিৎসার পরিকল্পনা করছেন এমন দম্পতিদের জন্য, অভিজ্ঞ ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া IVF ব্যর্থতার সম্ভাব্য কারণগুলি শনাক্ত করতে এবং সফল গর্ভধারণের সম্ভাবনা বাড়ানোর জন্য উপযুক্ত চিকিৎসার বিকল্পগুলি সম্পর্কে জানতে সাহায্য করতে পারে।

তোমার কি এটা পছন্দ হয়েছে?

সামাজিক এই শেয়ার করুন

কথা বলবেন?