
বয়স এবং এম্ব্রিও সংখ্যার ভিত্তিতে IVF সাফল্যের হার কত? ইন-ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (IVF) একটি ল্যাবরেটরি-ভিত্তিক প্রক্রিয়া, যা বন্ধ্যাত্বজনিত সমস্যায় ভুগছেন এমন দম্পতিদের জন্য পিতৃত্ব–মাতৃত্বের সুযোগ সৃষ্টি করে। যদি আপনি বয়সভিত্তিক আইভিএফ সাফল্যের হার সম্পর্কে জানতে চান, তবে দেখবেন যে ৩৫ বছরের নিচের নারীদের ক্ষেত্রে সাফল্যের সম্ভাবনা সর্বোচ্চ। এআইআইএমএস (AIIMS)-এর তথ্য অনুযায়ী, উপযুক্ত চিকিৎসার মাধ্যমে আইভিএফ সাফল্যের হার ৪০% পর্যন্ত হতে পারে। আপনার বয়স বা স্বাস্থ্যগত কারণে আইভিএফ সাফল্যের বিষয়ে উদ্বেগ থাকলে অবশ্যই একজন ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞ এবং স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত।
আইভিএফ মূলত সেই দম্পতিদের জন্য, যারা দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ্যাত্বের সমস্যায় ভুগছেন। যদি বহু বছর চেষ্টা করার পরও গর্ভধারণ না হয় এবং ডাক্তার জানান যে ফলোপিয়ান টিউব ব্লক, ডিম্বস্ফোটনজনিত সমস্যা, এন্ডোমেট্রিওসিস, জেনেটিক রোগ - এর মতো সমস্যাগুলো রয়েছে—তাহলে আইভিএফ একটি উপযুক্ত চিকিৎসা।
পুরুষজনিত বন্ধ্যাত্বেও IVF অত্যন্ত কার্যকর। যেমন কম শুক্রাণু সংখ্যা, অস্বাভাবিক শুক্রাণুর গঠন, ফালোপিয়ান টিউবে পৌঁছানোর অক্ষমতা - এই পরিস্থিতিতে ল্যাবে নিষিক্তকরণ করা হয় এবং সেই ভ্রূণ নারীর জরায়ুতে প্রতিস্থাপন করা হয়।
আইভিএফ চিকিৎসার সফলতা অনেকটাই নির্ভর করে রোগীর বয়স ও শারীরিক অবস্থার ওপর। যেমন, ৩৫ বছরের নিচে নারীদের ক্ষেত্রে IVF-এর মাধ্যমে গর্ভধারণের সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি। তাই যদি আপনার বয়স ৩০-এর বেশি হয়, আপনি বিবাহিত হন এবং বেশ কয়েক বছর চেষ্টা করেও গর্ভধারণে সফল না হয়ে থাকেন, তাহলে আইভিএফ চেষ্টা করাই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত হতে পারে। এতে সফল হওয়ার সম্ভাবনাও বেশি থাকে। এছাড়াও আইভিএফ -এর সফলতাকে প্রভাবিত করে এমন আরও কিছু বিষয় রয়েছে, যেমন—
IVF চিকিৎসায় ডিম্বাণু ও এমব্রিওর গুণগত মান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভালো মানের ডিম্বাণুতে নিষেক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে, আর ভালো মানের এমব্রিও থাকলে জরায়ুতে বসার (ইমপ্লান্টেশন) সম্ভাবনাও বাড়ে। তাই এমব্রিও ট্রান্সফারের সফলতার হার IVF চিকিৎসার একটি খুব গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
আইভিএফ চিকিৎসায় সিমেন অ্যানালাইসিস খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। যদি আপনার সঙ্গীর সিমেন ব্যবহার করা হয়, তাহলে আগে সিমেন অ্যানালাইসিস টেস্ট করানো জরুরি, যাতে IVF সফল হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। কারণ শুক্রাণুর মানে কোনো সমস্যা থাকলে তা IVF চিকিৎসার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
আইভিএফ একটি জটিল প্রক্রিয়া, তাই সাফল্যের হার বাড়াতে চিকিৎসকের সব নির্দেশিকা কঠোরভাবে মেনে চলা প্রয়োজন।
আইভিএফ সাফল্য সাধারণত লাইভ বার্থ (জীবিত সন্তান জন্ম)-এর ওপর ভিত্তি করে পরিমাপ করা হয়:
৩৫-এর নিচে আইভিএফ সাফল্যের হার তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। তবে ৩৫-এর পরও অভিজ্ঞ গাইনোকোলজিস্ট ও ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে সফল হওয়া সম্ভব।
মানুষের প্রজননক্ষমতা বয়স বাড়ার সাথে কমে যায়—এটি স্বাভাবিক। বয়স বাড়লে নারীদের ডিম্বাশয়ে oocyte (ডিম্বাণু) সংখ্যা দ্রুত কমে যায়।
পরিসংখ্যান দেখায় একজন ৩০ বছর বয়সী নারীর প্রায় ১,০০,০০০–১,৫০,০০০ ডিম্বাণু থাকে ৪০ বছরে এসে তা কমে ৫,০০০–১০,০০০-এ দাঁড়ায় এত দ্রুত হ্রাস পাওয়ার ফলে ক্রোমোজোমগতভাবে সুস্থ ডিম্বাণু খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়, যার ফলে IVF সাফল্যের হারও কমতে থাকে।
এমব্রিও ট্রান্সফার তখনই হয়, যখন নিষিক্ত ডিম্বাণুটি জরায়ুর ভেতরে রাখা হয়। এটি IVF চিকিৎসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই প্রক্রিয়ায় একটি পাতলা ক্যাথেটারের সাহায্যে সার্ভিক্স দিয়ে এমব্রিও ও তরল একসঙ্গে জরায়ুর ভেতরে পৌঁছে দেওয়া হয়। একই সময়ে আল্ট্রাসাউন্ড করা হয়, যাতে এমব্রিও বসানোর জন্য জরায়ুর সবচেয়ে ভালো জায়গাটি ঠিকভাবে চিহ্নিত করা যায়।
সফল গর্ভধারণের জন্য কার্যকর ভ্রূণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সাধারণভাবে ৬ থেকে ১২টি কার্যকর ভ্রূণ তৈরি থাকলে সাফল্যের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে একটি স্বাভাবিক ভ্রূণ গর্ভধারণের ৬৫% সম্ভাবনা সৃষ্টি করে।
বয়সভেদে ৩৫-এর নিচে থাকলে সিঙ্গেল এমব্রিও ট্রান্সফার (SET)-এও সাফল্য পাওয়া সম্ভব।৪০-এর বেশি বয়সে সাধারণত ২ বা তার বেশি ভ্রূণ প্রতিস্থাপন করা হয়, যাতে সাফল্যের হার বাড়ে।অতএব, বয়স অনুযায়ী ভ্রূণের সংখ্যা নির্ধারণ করা জরুরি।
যদি আপনি সর্বোচ্চ আইভিএফ সাফল্যের নিশ্চয়তা চান, তবে কোলকাতার সেরা আইভিএফ সেন্টার— আভা সার্জি সেন্টার —আপনার নির্ভরযোগ্য গন্তব্য।
আমাদের অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ দল সারা দেশের রোগীদের আইভিএফ সেবা প্রদান করে থাকে এবং পিতৃত্ব–মাতৃত্বের স্বপ্ন পূরণে সহায়তা করে।